নিজস্ব প্রতিবেদন : মন্ত্রীত্বের পদ পেয়েছেন, কিন্তু ‘মন্ত্রী’ শব্দটাই তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে। জনপ্রতিনিধিকে দেবতা বানানোর সংস্কৃতির বিরোধিতা করে স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন পর্যটন ও পরিষদীয় দপ্তরের মন্ত্রী ডঃ শঙ্কর ঘোষ। তাঁর বক্তব্য— প্রকৃত সম্মান মানুষের জন্য, ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়।

রাজ্যের নতুন পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে বিনয়ী অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক ডঃ শঙ্কর ঘোষ। বুধবার বিকেলে শিলিগুড়ির সুভাষপল্লীতে ভারত সেবাশ্রম সংঘ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,
“আমাকে যেন কেউ অসাধারণ মানুষ বা দেবতা বানানোর চেষ্টা না করেন। অতীতে এ রাজ্যে কিছু মন্ত্রীর যে ভাবমূর্তি মানুষের সামনে উঠে এসেছে, তা দেখে ‘মন্ত্রী’ শব্দটিকেই ভয় লাগে।”তিনি আরও বলেন, কোনও জনপ্রতিনিধিকে যদি অতি-মহিমান্বিত করা হয়, তাহলে তাঁর কাছ থেকে মানুষের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণ হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ডঃ ঘোষের মতে, তিনি একা মন্ত্রী হননি; প্রকৃত অর্থে এই সম্মান পেয়েছেন শিলিগুড়ি ও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।
এদিনের অনুষ্ঠানে ডঃ শঙ্কর ঘোষের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তকেও সংবর্ধনা জানানো হয়। মঞ্চ থেকে উপস্থিত বক্তারা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং দেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্থানীয় মহারাজ স্বামী ধর্মাত্মানন্দজী, স্বামী অতীশানন্দ মহারাজ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা ও কর্মী। বিশিষ্ট সমাজসেবী ও পরিবেশপ্রেমী জ্যোৎস্না আগরওয়ালাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ বিদ্যাবতী আগরওয়ালা।
পাশাপাশি ভারত সেবাশ্রম সংঘের ভক্তবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক বিজেপি কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর।সমবেত ‘বন্দেমাতরম’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রনবানন্দজীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে মূল পর্ব শুরু হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিজেপি মুখপাত্র কমল ঘোষ এবং স্বামী অতীশানন্দ মহারাজ। অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক নৃত্য পরিবেশনও দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
সংবর্ধনার মঞ্চ থেকে ডঃ শঙ্কর ঘোষের বিনয়ী বার্তা এবং জনসেবাকে সর্বাগ্রে রাখার অঙ্গীকার উপস্থিতদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে।
তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে একটাই কথা— পদ নয়, মানুষের আস্থা ও সেবা করাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

