নিজস্ব প্রতিবেদক :ভোরে গরু দোহন, তারপর বাড়ি বাড়ি দুধ বিক্রি। বিকেলে আবার কাপড় ও দুধ নিয়ে ফেরি। সংসারের কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও থামেননি তিনি। স্বামীকে হারানোর গভীর শোককে শক্তিতে বদলে উত্তরবঙ্গের মাটির গান ভাওয়াইয়া-কে আপন সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন শিলিগুড়ির পূর্ব চয়নপাড়ার বাসিন্দা শম্পা দত্ত। তাঁর জীবনসংগ্রাম আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প।

স্বামী মৃদুল দত্ত ওরফে বাপ্পার মৃত্যুর পর ২০২০ সাল থেকে কার্যত একাই সংসারের হাল ধরেছেন ৪১ বছরের শম্পা দত্ত। পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি এবং ছেলে-মেয়ে। সংসার চালাতে প্রতিদিন ভোরে গরু দোহন করে দুধ বিক্রি করেন, আবার বিকেলে দুধের পাশাপাশি কাপড়ও ফেরি করেন। কঠোর পরিশ্রমই তাঁর পরিবারের ভরসা।
স্বামী বেঁচে থাকাকালীন গান ভালোবাসলেও প্রথাগত সঙ্গীত শিক্ষার সুযোগ হয়নি। তবে আপন মনে গুনগুন করে গান গাইতেন। স্বামীর অকাল প্রয়াণের পর মানসিক কষ্ট কাটাতে তিনি নিয়মিত ভাগবত পাঠ ও কীর্তন শুনতে যাওয়া শুরু করেন। সেখান থেকেই সঙ্গীতকে আরও গভীরভাবে আপন করে নেওয়ার ইচ্ছা জাগে। পরে একজন গুরুর কাছে তালিম নিতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে ভাওয়াইয়া গানেই খুঁজে পান নিজের নতুন পরিচয়।
আজ শুধু গান গাওয়াই নয়, নিজের জীবনের সুখ-দুঃখ, স্বামীকে হারানোর বেদনা ও সংসারের সংগ্রাম নিয়েও গান লিখছেন, সুর দিচ্ছেন। তাঁর আর এক গুরু তথা আত্মীয়, শিলিগুড়ির মাঝাবাড়ির বিশিষ্ট ভাওয়াইয়া শিল্পী জগন্নাথ রায়ের লেখা একাধিক গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন শম্পা।
জগন্নাথ রায়ের কথায়, কঠিন আর্থিক সংকট ও পারিবারিক দায়িত্বের মাঝেও শম্পার নিষ্ঠা এবং সঙ্গীতচর্চার প্রতি ভালোবাসা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। জীবনের প্রতিকূলতাকে হার না মেনে উত্তরবঙ্গের লোকসংগীতকে যেভাবে তিনি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন, তা নিঃসন্দেহে আজকের সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

