অলক-মিতা সারদা শিশু তীর্থের রজত জয়ন্তী ও রবীন্দ্র জয়ন্তী মহাসমারোহে উদযাপিত**

নিজস্ব প্রতিবেদক : জলপাইগুড়ি জেলার সিপাইপাড়ার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান *‘অলক-মিতা সারদা শিশু তীর্থে অত্যন্ত আনন্দ ও মর্যাদার সাথে পালিত হলো বিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি অর্থাৎ রজত জয়ন্তী উৎসব এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী। ২০২৬ সালের ৯ই মে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দ্বৈত উৎসব উদযাপন করা হয়।

২০০০ সালে চতুরাগছ অঞ্চলের একটি নিভৃত গ্রামে ‘বিদ্যাভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থান’-এর আদর্শে এই বিদ্যালয়ের পথচলা শুরু হয়েছিল। নানা প্রতিকূলতার কারণে পরবর্তীতে এটি সিপাইপাড়া অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়।

বিদ্যালয়টির বর্তমান শ্রীবৃদ্ধির মূলে রয়েছে স্বর্গীয় ডঃ অলোক পালের মহতী অবদান; তিনি ১ বিঘা জমি দান করেছিলেন যেখানে টিনের ঘরে প্রথম পঠন-পাঠন শুরু হয়। পরবর্তীকালে ডঃ পাল ও তাঁর সহধর্মিণীর স্মৃতি রক্ষার্থে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় ‘অলক-মিতা সারদা শিশু তীর্থ’।

এদিন সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আমন্ত্রিত অতিথিদের মূল্যবান বক্তব্য এবং রবীন্দ্র সংগীতের মূর্ছনায় এক আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি হয়। দ্বিতীয় পর্বে বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, আবৃত্তি এবং নাটকের মাধ্যমে তাদের প্রতিভা প্রদর্শন করে।

রজত জয়ন্তী উপলক্ষে গত ২০২৫ সাল থেকেই বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান চলে আসছিল, যার সমাপ্তি ঘটে এই মেগা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠ প্রধান নগরের তরফে *স্বামী রাঘবানন্দ মহারাজ*।

মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা *ডঃ সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায়*এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সূর্যসেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা সুতপা সাহা*।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি

বিপ্লব সেনগুপ্ত, বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সম্পাদক বিমল কৃষ্ণ দাস,শিলিগুড়ির বিভিন্ন সারদা শিশু তীর্থের প্রধান আচার্য ও সহ-আচার্যবৃন্দ।এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি *নিঃশুল্ক চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের*আয়োজন করা হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ের দীর্ঘ পথচলায় যুক্ত থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রধান আচার্যদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রমুখ পপি দে সরকার জানিয়েছেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে এই বিদ্যালয় আগামী দিনেও একইভাবে কাজ করে যাবে। সামগ্রিকভাবে, অনুষ্ঠানটি এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।