নিজস্ব প্রতিবেদক : জন্মদিনের দিনই পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক ডঃ শঙ্কর ঘোষ।
দায়িত্ব নেওয়ার পরই ঘোষণা করলেন অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটনের নতুন ভাবনা—“ভ্রমণ শুধু ধনীদের জন্য নয়, সাধারণ ও পিছিয়ে পড়া মানুষেরও অধিকার।”

আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশ্বাস দিলেন তিনি।
পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল ও নদীকেন্দ্রিক পর্যটনকে বিশ্বমানের পর্যায়ে তুলে ধরাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানালেন নতুন মন্ত্রী।জন্মদিনের দিনই পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক ডঃ শঙ্কর ঘোষ।
শুক্রবার সকালে পূজার্চনার মধ্য দিয়ে নতুন দায়িত্বের সূচনা করেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পরই পর্যটন নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা তুলে ধরে জানান, পর্যটনকে আর কেবলমাত্র সমাজের সচ্ছল অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না; বরং সাধারণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের কাছেও ভ্রমণের সুযোগ পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কলকাতায় দায়িত্ব গ্রহণের পর বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছলে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এদিন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, পর্যটন দপ্তরের পাশাপাশি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর ইতিমধ্যেই দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানান তিনি।
নতুন পর্যটনমন্ত্রী দাবি করেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছাপ চোখে পড়বে। তাঁর কথায়, পাহাড়, সমুদ্র, অরণ্য, নদী ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে আরও উন্নত ও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে, যাতে সব শ্রেণির মানুষ সহজে পর্যটনের সুবিধা নিতে পারেন।
ডঃ ঘোষ বিশেষভাবে ট্যুরিজম ফর অল বা ‘সবার জন্য পর্যটন’ ভাবনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, পর্যটন শুধুমাত্র উচ্চবিত্তদের বিনোদনের বিষয় হতে পারে না। সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও যাতে স্বল্প ব্যয়ে ভ্রমণের সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তা ও কর্মীদের উদ্দেশেও বার্তা দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, আইন ও বিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করলে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলের সমস্যার সমাধানে সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটানোই হবে অগ্রাধিকার।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটনের যে বার্তা দিলেন ডঃ শঙ্কর ঘোষ, তা রাজ্যের পর্যটন শিল্পে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা করতে পারে বলেই মনে করছে পর্যটন মহল।

