আদর্শের লড়াইয়ে আজও অবিচল গীতা দেবী

নিজস্ব প্রতিবেদন : বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসবে— এই স্বপ্ন নিয়েই দীর্ঘ কয়েক দশক রাজনৈতিক পথচলা।
অপমান, বাধা, এমনকি চিকিৎসা পেশায়ও মূল্য দিতে হয়েছে দলীয় আদর্শে অটল থাকার জন্য।আজ বয়সের ভারে সক্রিয়তা কমলেও রাজনীতির প্রতি নিষ্ঠা ও সমাজ নিয়ে ভাবনা একটুও কমেনি শিলিগুড়ির প্রবীণ বিজেপি নেত্রী ডাঃ গীতা চ্যাটার্জীর।

শিলিগুড়ির রাজনৈতিক পরিসরে পরিচিত মুখ ডাঃ গীতা চ্যাটার্জী। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির আদর্শ ও নীতি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে চলেছেন তিনি। এমন এক সময়ে বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে পথে নেমেছিলেন, যখন বাংলায় দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল অত্যন্ত সীমিত।

সেই সময় নানা প্রতিকূলতা, সামাজিক অপমান এবং ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। এমনকি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চিকিৎসা পেশা থেকেও সরে আসতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

দলীয় কাজের সূত্রে একসময় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবানি, ডঃ মুরলী মনোহর যোশী, সুষমা স্বরাজ এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অশোক সিঙ্ঘলের মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯০ ও ২০১৬ সালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়াও নব্বইয়ের দশকে একবার দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র থেকেও দলের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। যদিও কোনও নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি, তবে তাঁর কথায়, “জয়-পরাজয় কখনও লক্ষ্য ছিল না।

মানুষের মধ্যে আদর্শের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।”বর্তমানে তিনি শিলিগুড়ি বিজেপির সাংগঠনিক জেলা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। বয়সজনিত কারণে সব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে না পারলেও দলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিয়মিত খবর রাখেন এবং কর্মীদের উৎসাহ জোগান।

‘খবরের ঘন্টা’-র সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ডাঃ চ্যাটার্জী বলেন, “আমি রাজনীতি করেছি আদর্শ ও নীতির জন্য, ব্যক্তিগত সুবিধা বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়।”

আসন্ন চিকিৎসক দিবস প্রসঙ্গে তিনি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, চিকিৎসা পরিষেবার জন্য যুক্তিসঙ্গত বিল নেওয়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত খরচের বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাজ্যের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা এবং বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে সরকারি প্রকল্পগুলি আরও কার্যকর হতে পারে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, আদর্শের প্রতি অটল বিশ্বাস এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্পষ্ট মতামতের মাধ্যমে আজও শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে প্রাসঙ্গিক ডাঃ গীতা চ্যাটার্জী।