মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন চা শ্রমিক, প্রশংসায় পদ্মশ্রী করিমূল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পৌঁছে গিয়েছিলেন ডুয়ার্সের এক চা শ্রমিক।
একাধিক জায়গায় হতাশাজনক উত্তর পাওয়ার পর শেষ ভরসা হয়ে ওঠেন নিউরোসার্জন ডাঃ মলয় চক্রবর্তী।
জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে পান রোগী।
চিকিৎসকের মানবিক উদ্যোগ ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পদ্মশ্রী করিমূল হক।

ডুয়ার্সের ক্রান্তি এলাকার ৪২ বছর বয়সী চা শ্রমিক রফিকুল হক প্রায় তিন মাস আগে হঠাৎই মারাত্মক স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের এই শ্রমিকের শারীরিক অবস্থা দ্রুত সংকটজনক হয়ে ওঠে।

পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও অনেকেই রোগীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানান এবং তাঁকে বাঁচানো কঠিন বলে মত প্রকাশ করেন।পদ্মশ্রী করিমূল হকের কথায়, সেই কঠিন পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় রফিকুল হককে শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে অবস্থিত থ্যালামাস ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে বিশেষজ্ঞ নিউরোসার্জন ডাঃ মলয় চক্রবর্তী রোগীকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রোগীর জীবন বাঁচাতে ডাঃ চক্রবর্তী একটি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচারের সময় মাথার খুলির একটি অংশ সাময়িকভাবে অপসারণ করে তা রোগীর শরীরের অন্য অংশে সংরক্ষণ করা হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত এই পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটতে শুরু করে।
বর্তমানে প্রায় তিন মাস ধরে রফিকুল হক বাড়িতে থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। নিউরো সার্জন ডাক্তার মলয় চক্রবর্তীর পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দিনে তার আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হবে।

সেই অস্ত্রোপচারে সংরক্ষিত খুলির অংশটি পুনরায় মাথায় প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।পদ্মশ্রী করিমূল হক বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল এই রোগীর চিকিৎসায় ডাঃ মলয় চক্রবর্তী অত্যন্ত মানবিক ভূমিকা পালন করেছেন এবং নামমাত্র খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

তিনি আরও জানান, এর আগেও ডাঃ চক্রবর্তী এ ধরনের বিশেষ ও জটিল নিউরোসার্জারির মাধ্যমে বহু রোগীকে সুস্থ করে তুলেছেন।একজন সাধারণ চা শ্রমিকের জীবনে নতুন আশার আলো ফিরিয়ে আনার এই ঘটনাকে মানবিক চিকিৎসা ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলেই মনে করছেন এলাকার মানুষ।