নিজস্ব প্রতিবেদন : ১ জুলাই থেকেই পাহাড়ে শুরু হবে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প।কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ, বিদ্যুতে ভর্তুকি ও নতুন নিয়োগের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ঘিরে কার্শিয়াংয়ের সভায় উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।

উত্তরবঙ্গ সফরে মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের জনসভা থেকে পাহাড়বাসীর জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও সুবিধার ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে পাহাড় অঞ্চলে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করা হবে, যার ফলে বহু মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জিটিএ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতীতে নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তবে বর্তমান সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রশাসন পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর। শিক্ষক ও পুলিশ নিয়োগে দুর্নীতির কোনও স্থান থাকবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুলিশে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান।
পাহাড়ের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে কালিম্পংয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সভা থেকে বিদ্যুৎ পরিষেবায় ভর্তুকি, জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় রেশন সুবিধায় বিশেষ সহায়তা, ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের আওতায় পাহাড়বাসীদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি। এছাড়া ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড়ে স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং চা শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে পাহাড়ের উন্নয়নের বদলে দুর্নীতি, তোলাবাজি ও কাটমানির সংস্কৃতি বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া পূরণে উদ্যোগী হয়েছে।
এদিকে উত্তরবঙ্গ সফরে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছালে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং বিজেপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এই সফরকে ঘিরে পাহাড়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

