নিজস্ব প্রতিবেদক : সমতলে যখন ভোটের উত্তাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় থাকা বুথগুলোতে পৌঁছাতে শুরু করেছেন ভোটকর্মীরা। ২৩শে এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় দার্জিলিং জেলার অত্যন্ত দুর্গম এবং উচ্চতায় অবস্থিত ১১টি ‘পি মাইনাস ২’ (P-2) বুথে ভোট নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার থেকে ভোটকর্মীদের প্রথম দলটি তাঁদের গন্তব্যে রওনা দিয়েছে।

⭕**’পি মাইনাস ২’ (P-2) বুথ কী?**
নির্বাচনী পরিভাষায় ‘পি মাইনাস ২’ বলতে সেই সমস্ত বুথকে বোঝানো হয় যেখানে পৌঁছাতে ভোটকর্মীদের ভোটের মূল দিনের দুই দিন আগে (অর্থাৎ Poll day minus 2 days) যাত্রা শুরু করতে হয়। অত্যন্ত দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, খাড়া পাহাড় বা যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় এই কর্মীদের আগেভাগেই রওনা হতে হয় যাতে তাঁরা সময়মতো ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রাখতে পারেন।
⭕শ্রীখোলা ও অন্যান্য দুর্গম বুথের তথ্য
দার্জিলিং জেলার সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এলাকা এবং ভারত-নেপাল সীমান্ত লাগোয়া বুথগুলো এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
⭕শ্রীখোলা বুথ: এটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম উঁচু এবং দুর্গম বুথ হিসেবে পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৭,০০০ ফুটের বেশি। শ্রীখোলা ছাড়াও লো্ধামা, রিম্বিক এবং সান্দাকফু সংলগ্ন এলাকার বুথগুলোতে পৌঁছাতে ভোটকর্মীদের অনেক পথ হেঁটে বা পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তায় জিপে করে যেতে হয়।
⭕মোট বুথ সংখ্যা: দার্জিলিং জেলায় এ বছর মোট ১১টি বুথকে ‘পি মাইনাস ২’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
⭕ভোটার সংখ্যা: এই দুর্গম বুথগুলোতে গড়ে ভোটার সংখ্যা ৪০০ থেকে ৬০০-এর মধ্যে। শ্রীখোলার মতো বুথে সাধারণত ৫০০-র কম ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
⭕কোথা থেকে রওনা: মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে দার্জিলিংয়ের সরকারি কলেজ বা ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার (RC/DC) থেকে ভোটকর্মীদের এই দলগুলো ইভিএম (EVM) ও ভিভিপ্যাট (VVPAT) নিয়ে রওনা দেন।
⭕কিভাবে যাত্রা: অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা চার চাকার জিপে করে রিম্বিক পর্যন্ত যাবেন। সেখান থেকে শ্রীখোলার মতো অনেক কেন্দ্রে পৌঁছাতে মালবাহী ঘোড়া এবং ভোটকর্মীদের পাহাড়ি পথে কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বুথে পৌঁছাতে হবে।
⭕নিরাপত্তা: প্রতিটি ভোটকর্মী দলের সঙ্গে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ কর্মীরা রয়েছেন। তাঁদের কাছে স্যাটেলাইট ফোন বা ওয়্যারলেস সেট দেওয়া হয়েছে যাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়।
⭕নির্বাচনী বিধি ও প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকা মেনে এই ভোটকর্মীরা বুথে পৌঁছানোর পর থেকে সাইলেন্স পিরিয়ডের নিয়মকানুন তদারকি করবেন। কোনো বুথেই যাতে রাজনৈতিক প্রভাব না পড়ে এবং ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই আগাম প্রস্তুতি। পাহাড়ি প্রতিকূলতাকে জয় করে গণতন্ত্রের এই উৎসবে সামিল হতে ভোটকর্মীদের এই উৎসাহ নজিরবিহীন।
দার্জিলিংয়ের মতো কালিম্পং জেলাতেও ‘পি মাইনাস’ (বিশেষ করে P-2) শ্রেণির বুথ রয়েছে , তবে সংখ্যায় তা কম।
কালিম্পং জেলার ভৌগোলিক অবস্থানও অনেকাংশে দুর্গম পাহাড়ি হওয়ায় কিছু ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে—
ভারত-ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা,
উচ্চ পার্বত্য গ্রামাঞ্চল,
বনাঞ্চল বা বিচ্ছিন্ন বসতি
এইসব জায়গায় অবস্থিত বুথগুলিকে নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘পি মাইনাস ১’ (P-1) বা ‘পি মাইনাস ২’ (P-2) হিসেবে চিহ্নিত করে।
সাধারণত কালিম্পংয়ে যেসব এলাকাগুলো এই তালিকায় আসতে পারে, সেগুলি হলো—
লোলেগাঁও,
লাভা ও নেউরা ভ্যালি, সংলগ্ন অঞ্চল,
গরুবাথান ব্লকের কিছু দুর্গম এলাকা,
সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রাম–
এইসব জায়গায় ভোটকর্মীদের আগেভাগে রওনা হতে হয়, অনেক ক্ষেত্রে হাঁটা পথও পাড়ি দিতে হয়, ঠিক দার্জিলিংয়ের সিঙ্গালিলা অঞ্চলের মতোই।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কালিম্পংয়েও ‘পি মাইনাস’ বুথ রয়েছে, তবে সংখ্যা তুলনামূলক কম ।
তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন, পশ্চিমবঙ্গ ও স্থানীয় প্রশাসন। এই সংবাদটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং নির্বাচনী সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

