বুদ্ধ পূর্ণিমায় ‘মধ্যম পথ’-এর বার্তা, শান্তি ও ভারসাম্যের দর্শন তুলে ধরলেন সিদ্ধার্থ বড়ুয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৫৭০তম বুদ্ধবর্ষ তথা বুদ্ধ পূর্নিমা উপলক্ষে সমগ্র মানবজাতির প্রতি শান্তি, মৈত্রী ও শ্রদ্ধার বার্তা জানালেন শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া বিদর্শন ধ্যান আশ্রমের বিশিষ্ট বুদ্ধ অনুরাগী সিদ্ধার্থ বড়ুয়া।

এই বিশেষ দিনে বুদ্ধের জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ—স্মরণ করে ‘মধ্যম পথ’ বা ‘দ্য মিডল ওয়ে’-এর তাৎপর্য তুলে ধরেন আশ্রমের সক্রিয় কর্মী ও বুদ্ধ অনুরাগী সিদ্ধার্থ বড়ুয়া।

গৌতম বুদ্ধে-র জীবনদর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, রাজকুমার সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগের পর কঠোর তপস্যা করেও উপলব্ধি করেছিলেন যে চরম কৃচ্ছ্রসাধন মুক্তির পথ নয়। সুজাতার পায়েস গ্রহণের মাধ্যমে দেহে শক্তি ফিরে পেয়ে তিনি বোধিবৃক্ষের নিচে ধ্যানে বসেন এবং সেখানেই বুদ্ধত্ব লাভ করেন।

এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন, অতিরিক্ত ভোগবিলাসিতা কিংবা কঠোর সংযম—কোনোটিই নয়, বরং এদের মাঝামাঝি এক ভারসাম্যপূর্ণ পথই হলো প্রকৃত মুক্তির উপায়।

সিদ্ধার্থ বড়ুয়ার কথায়, জয়ের সঙ্গে যেমন শত্রুতা বাড়ে, তেমনই পরাজয় বয়ে আনে মানসিক যন্ত্রণা। তাই জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আত্মজয় অর্জন করাই শ্রেষ্ঠ পথ। যেখানে প্রতিযোগিতা নেই, সেখানে রয়েছে প্রকৃত শান্তি। এই দর্শনই ‘মধ্যম পথ’-এর মূল শিক্ষা, যা জীবনের প্রতিটি স্তরে—পরিবার, সমাজ ও বিশ্বপরিসরে—প্রাসঙ্গিক।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতির মতোই জীবনের ক্ষেত্রেও চরমতার ফল ক্ষতিকর—অতিবৃষ্টিতে যেমন বন্যা, আবার অনাবৃষ্টিতে খরা। তাই ভারসাম্যই একমাত্র স্থিতিশীলতার পথ। বর্তমান বিশ্বে যখন অশান্তি ও সংঘাত বাড়ছে, তখন বুদ্ধের এই দর্শন গভীরভাবে অনুধাবন করে ব্যক্তিজীবনে প্রয়োগ করা জরুরি।

শৈশব থেকেই গৌতম বুদ্ধের একনিষ্ঠ অনুসারী সিদ্ধার্থ বড়ুয়া। বুদ্ধ জয়ন্তী উপলক্ষে হায়দরপাড়া বিদর্শন ধ্যান আশ্রমে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বিশেষ করে শোভাযাত্রায়, তিনি গৌতম বুদ্ধের সাজে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর জীবন ও দর্শন তুলে ধরেন।

প্রতিদিনের জীবনে বুদ্ধের শিক্ষাকে ধারণ করে তিনি মনে করেন, অহিংসা ও শান্তির পরিবেশ গড়ে তুলতে এই দর্শনের বাস্তব প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।শেষে তাঁর আহ্বান—বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক, সকল প্রাণী সুখী হোক এবং মানবসমাজে সম্প্রীতির আলো ছড়িয়ে পড়ুক।