নিজস্ব প্রতিবেদন :মাত্র ১১ বছর বয়সেই একক তবলা পরিবেশনায় নজর কাড়ছে সুহান অধিকারী। পরিবারের ১৪০ বছরের সঙ্গীত ও তবলার ঐতিহ্য যেন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে তার হাতের ছোঁয়ায়। বাবার তবলার বোল শুনতে শুনতেই তৈরি হয়েছে সুরের প্রতি গভীর অনুভব।
বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে শিলিগুড়ির মঞ্চে তবলার জাদু ছড়িয়ে দর্শকদের মন জয় করল এই খুদে শিল্পী।

শিলিগুড়ির সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে মঙ্গলবারের সন্ধ্যাটি হয়ে উঠেছিল বিশেষ স্মরণীয়। বিশ্ব সঙ্গীত দিবসকে সামনে রেখে হিলকার্ট রোড ব্যবসায়ী সমিতির হলঘরে রাগিনী, সুর সরগম, সঙ্গম এবং বিন্দুর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে দেয় মাত্র ১১ বছরের তবলা শিল্পী সুহান অধিকারী।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সুহান এমন এক পরিবারে জন্মেছে, যেখানে প্রায় ১৪০ বছর ধরে চলে আসছে তবলা ও সঙ্গীতচর্চার ঐতিহ্য। তার বাবা সুবীর অধিকারী উত্তরবঙ্গের পরিচিত তবলা শিল্পী। জন্মের পর থেকেই ঘরের মধ্যে তবলার বোল আর সুরের আবহে বড় হয়েছে সুহান। ফলে খুব ছোট বয়স থেকেই তার মধ্যে গড়ে ওঠে তালের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ ও সূক্ষ্ম শ্রবণশক্তি।
মাত্র সাড়ে চার বছর বয়স থেকে বিভিন্ন মঞ্চে একক তবলা পরিবেশন শুরু করে সুহান। ইতিমধ্যেই কলকাতার আইসিসিআর-এর একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তবলা বাজিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে সে। তার পরিবেশনা দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন বয়সের তুলনায় তার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দেখে।
সুহানের বাবা সুবীর অধিকারী বলেন, “সুহানের ভেতর থেকেই তবলা আসে। ওকে জোর করে ডেকে এনে রিহার্সাল করাতে হয় না। নিজের আগ্রহেই তবলার সঙ্গে সময় কাটায়। এই বয়সে ওর যে নিষ্ঠা, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।”
মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে সুহানের তবলার লয়, তাল ও দক্ষতা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। তার প্রতিটি পরিবেশনার শেষে করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সভাঘর। বিশ্ব সঙ্গীত দিবসের এই আয়োজনে খুদে শিল্পীর অসাধারণ প্রতিভা যেন সকলের কাছে এক নতুন সম্ভাবনার বার্তা তুলে ধরল।
সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্রের দীর্ঘ পারিবারিক ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা সুহান অধিকারী যে আগামী দিনে আরও বড় মঞ্চে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে, সে আশা এখন সঙ্গীতপ্রেমীদের অনেকেরই।

