স্কুলছাত্রীদের এইচপিভি টিকা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোধে বড় পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে স্কুলছাত্রীদের মধ্যে শুরু হয়েছে এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচি। জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এই টিকা অত্যন্ত কার্যকর বলে জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।কেন এই টিকা প্রয়োজন, কারা নিতে পারবেন এবং এর উপকারিতা কী—তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলেন শিলিগুড়ির বিশিষ্ট স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ জি বি দাস।

সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে সম্প্রতি স্কুলছাত্রীদের সারভাইকাল ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি HPV টিকা প্রদানের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

এই টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে একটি ভিডিও প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরলেন শিলিগুড়ি নিউ রামকৃষ্ণ সেবা সদনের বিশিষ্ট স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ জি বি দাস।তিনি জানান, সারভাইকাল বা জরায়ুমুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা HPV সংক্রমণ।

এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতেই এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়। বিশেষ করে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে এই টিকা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হলেও ১৫ থেকে ২৬ বছর বয়সী তরুণীরাও এটি নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ৪৫ বছর বয়স পর্যন্তও অনেক ক্ষেত্রে টিকাটি গ্রহণ করা সম্ভব।

ডাঃ দাস জানান, বয়সভেদে টিকার ডোজের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জন্য দুই ডোজ এবং ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য তিন ডোজ নির্ধারিত হয়। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

এই টিকা জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পাশাপাশি HPV-জনিত অন্যান্য ক্যান্সার ও রোগ প্রতিরোধেও সহায়তা করে। দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা প্রদান করাই এর অন্যতম বড় সুবিধা। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সাধারণত ইনজেকশনের স্থানে সামান্য ব্যথা বা ফোলাভাব, হালকা জ্বর কিংবা কিছুটা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বল্প সময়ের মধ্যে সেরে যায়।

তবে টিকা নেওয়ার পরেও নিয়মিত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্যাপ স্মিয়ার বা এইচপিভি পরীক্ষার মতো স্ক্রিনিং করিয়ে যাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি।

ডাঃ জি বি দাস পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই টিকাকরণ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, স্কুলস্তরে এইচপিভি টিকা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সারভাইকাল ক্যান্সারের প্রকোপ কমানো সম্ভব হবে এবং মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।