নিজস্ব প্রতিবেদক : দার্জিলিংয়ের কুয়াশাঘেরা পাহাড় থেকে বেঙ্গালুরুর কর্মচঞ্চল জীবনের পথে এক অসাধারণ জয়ের গল্প লিখলেন সেন্ট জোসেফ স্কুলের প্রাক্তনী *কৌশিক বড়ুয়া*। ভারতের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান *ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) বেঙ্গালুরু-তে পিজিবি, ২০২৬-২৮, প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভিড় থেকে বেছে নেওয়া মাত্র ৫০০ জনের সেই অভিজাত তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন কৌশিক, যা দার্জিলিং জেলা তথা সমগ্র পাহাড়ের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত।
কৌশিকের সাফল্যের এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ২০১৮ সালে, যখন তিনি সেন্ট জোসেফ স্কুলের টপার হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান ‘ব্লু কোট ‘ অর্জন করেন। কিন্তু পাহাড়ের গণ্ডি পেরিয়ে সমতলে পা রাখতেই তিনি অনুভব করেন প্রতিযোগিতার প্রকৃত স্বরূপ।
কৌশিকের কথায়: “কলকাতায় গিয়ে দেখলাম চারপাশের সবাই কোনো না কোনো জায়গার টপার। এই বাস্তবতা আমাকে মাটিতে নামিয়ে এনেছিল। তবে আমি বুঝেছিলাম, নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকলে ভিড় কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।”
কলেজ শেষে সিঙ্গাপুরের ই-কমার্স টেক স্টার্টআপ *’Anchanto’*, আনচান্তো-তে যোগ দেন কৌশিক। শুরুতে সাফল্যের মাপকাঠি কেবল ক্যারিয়ারের গ্রাফ হলেও, সময়ের সাথে তার চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্তন আসে। তিনি বুঝতে পারেন, নেতৃত্ব মানে কেবল উচ্চবাচ্য নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। আর এই নেতৃত্বের গুণাবলিকে আরও শাণিত করতেই তিনি এমবিএ, MBA, করার সিদ্ধান্ত নেন।
একদিকে পূর্ণ সময়ের চাকরি, অন্যদিকে কোনো ছুটি ছাড়াই এমবিএ-র কঠিন প্রস্তুতি—কৌশিকের এই যাত্রা ছিল অত্যন্ত কঠোর। তিনি বিশ্বাস করেন, আইআইএম-এর ইন্টারভিউ কেবল মেধায় নয়, বরং নিজের কাজকে গুছিয়ে বলা এবং ভবিষ্যতের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকার উপরেও নির্ভর করে।
বিশেষ করে বর্তমান যুগে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI এর প্রভাবে কর্মজগৎ যেভাবে বদলাচ্ছে, সেখানে প্রযুক্তি এবং বাস্তব বুদ্ধি—এই দুয়ের মেলবন্ধনই যে আগামী দিনের চাবিকাঠি, তা তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।
সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেও কৌশিক ভুলে যাননি তার শিকড়কে। হিমালয় অঞ্চলের সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ ফাউন্ডারদের সঠিক পথ দেখাতে তিনি আগ্রহী। যারা বড় স্বপ্ন দেখেও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে থমকে যান, তাদের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।
কৌশিক বড়ুয়ার এই যাত্রা আমাদের শেখায় যে, দূরত্ব কেবল মনের ভ্রান্তি। যদি মনে অদম্য জেদ এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার মানসিকতা থাকে, তবে দার্জিলিংয়ের পাহাড় থেকেও ভারতের সর্বোচ্চ শিখর ছোঁয়া সম্ভব। আগামী জুন মাস থেকেই আইআইএম বেঙ্গালুরুতে শুরু হচ্ছে তাঁর নতুন জীবনের পথচলা।

