নিজস্ব প্রতিবেদন : শিলিগুড়ির ইসকন মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র অনুত্তোর বড়ুয়া, ছোট বয়সেই তৈরি করেছে এক সুন্দর দৈনন্দিন অভ্যাস। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের এই পড়ুয়া প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই বাবা-মা ও গুরুজনদের প্রণাম করে। এরপর সে স্মরণ করে গৌতম বুদ্ধকে এবং নিয়মিত বুদ্ধ মন্ত্র উচ্চারণ করে।

অনুত্তোরের কথায়, এই অভ্যাস তার মনকে ভালো রাখে। আর মন ভালো থাকলে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজে মনঃসংযোগও অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। ছোট্ট এই উপলব্ধিই যেন বড় একটি শিক্ষার দিশা দেখাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অভ্যাস মূলত শিশুর মানসিকতা ও মূল্যবোধ গঠনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সকালে প্রার্থনা বা মন্ত্র উচ্চারণ করলে মন শান্ত থাকে, একাগ্রতা বাড়ে এবং দিনের শুরু হয় ইতিবাচক চিন্তায়। একইসঙ্গে নিয়মিতভাবে প্রণাম করার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়, যা তাদের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
শুধু ব্যক্তিগত স্তরেই নয়, এর সামাজিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। গৌতম বুদ্ধের শিক্ষায় দয়া, করুণা ও অহিংসার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ছোট থেকেই যদি শিশুরা এই মূল্যবোধে বড় হয়ে ওঠে, তবে সমাজে সহানুভূতি ও মানবিকতা বাড়ে, সহিংসতা কমে এবং একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্কও আরও দৃঢ় হয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র মন্ত্র উচ্চারণই যথেষ্ট নয়—এই শিক্ষাগুলি আচরণে প্রয়োগ করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।সব মিলিয়ে, অনুত্তোর বড়ুয়ার মতো ছোট ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতের সমাজকে আরও সুন্দর, শান্ত ও মানবিক করে তুলতে পারে।

