নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজের মাকে স্মরণ করে এক অনন্য উদ্যোগে সাহিত্য পত্রিকা ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকাশ করলেন ডক্টর দীপ্তি মুখার্জি। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে ইতিবাচক চিন্তার পরিবেশ গড়ে তোলাই এই পত্রিকার মূল উদ্দেশ্য। প্রথম সংখ্যাতেই যেসব কবি-সাহিত্যিকের স্বরচিত কবিতা স্থান পেয়েছে, তাঁদের স্মারক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।

শনিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ শিলিগুড়ির হাসপাতাল মোড়ে কর্মচারী সমিতির ভবনে আয়োজিত হয় এই পত্রিকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক ডক্টর দীপ্তি মুখার্জি, প্রধান উপদেষ্টা কৃষ্ণেন্দু দাস এবং উপদেষ্টা পল্লবী পাল। এদিনই প্রকাশিত হয় কৃষ্ণেন্দু দাস ও পল্লবী পালের যৌথ কাব্যগ্রন্থ ‘দ্বৈত ধারার কবিতা’।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুবীর দাস, অলোক চক্রবর্তী,ডঃ অসমঞ্জ সরকার এবং ডক্টর দুলাল দত্ত। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, খড়িবাড়ি, নকশালবাড়ি ও শিবমন্দিরসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু কবি ও সাহিত্যপ্রেমী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় মোট ৯৫ জন কবির কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮৫ জন কবি-সাহিত্যিককে পত্রিকা ও মেমেন্টো প্রদান করে সংবর্ধনা জানানো হয়। পাশাপাশি প্রায় ৯০ জন কবি নিজেদের কবিতা পাঠ করেন, যা অনুষ্ঠানে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে।
এই সংখ্যায় শিলিগুড়ির লেকটাউন নিবাসী দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী ও প্রতিভাবান ছাত্রী রূপকথা চট্টোপাধ্যায়ের স্বরচিত কবিতাও স্থান পেয়েছে। সর্বকনিষ্ঠ কবি হিসেবে তাঁকেও বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়। রূপকথার কথায়, “কবিতা লিখলে মন ভালো থাকে, সৃজনশীলতা বাড়ে”—এই বিশ্বাস থেকেই সে নিয়মিত লেখালিখি করে।
অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যগুরু সুজন দে, যা সাংস্কৃতিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। শেষপর্যন্ত জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সব মিলিয়ে, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে ‘অন্নপূর্ণা’ পত্রিকার এই আত্মপ্রকাশ শিলিগুড়ির সাংস্কৃতিক পরিসরে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন বলেই মনে করছেন উপস্থিত মহল।

