পবিত্র ঈদের নামাজে সম্প্রীতির বার্তা, কাঞ্চনজঙ্ঘা ময়দানে কড়া নিরাপত্তা পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদন : পবিত্র ঈদ-উল-জোহা উপলক্ষে রবিবার শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন ময়দানে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ঈদের নামাজে সামিল হন। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে নামাজ আদায়কে ঘিরে এলাকায় দেখা যায় ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের আবহ।

এদিন নামাজ পাঠে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সঈদ ওয়াকার রাজা, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কাজী শামসুদ্দীন আহমেদ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। নামাজ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, “সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে মানুষ আজকের এই পবিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন, যা শহরের সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।”উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক বিভাগের তরফেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, রাষ্ট্রপতির সিকিম সফর শেষে দিল্লি প্রত্যাবর্তনের কর্মসূচি থাকায় শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার) তন্ময় সরকারের তত্ত্বাবধানে ড্রোনের মাধ্যমে গোটা হাশমিচক এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ঈদ মানেই শুধু উৎসব নয়, ত্যাগ, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা। পবিত্র কোরানে বলা হয়েছে—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচার ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন।” — (সূরা আন-নাহল, ১৬:৯০)

আরও বলা হয়েছে—
“তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” — (সূরা আলে ইমরান, ৩:১০৩)ঈদের দিনে সেই শিক্ষাকেই সামনে রেখে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। কারণ উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে মানুষের মিলন ও পারস্পরিক ভালোবাসার মধ্যেই।