মূল্যবৃদ্ধির চাপেও ঐতিহ্যে অটল— নববর্ষে হালখাতা উদযাপনে প্রতাপ জুয়েলার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক : নববর্ষ মানেই বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য— হালখাতা, গণেশ পুজো, নতুন বাংলা ক্যালেন্ডার বিতরণ আর মিষ্টিমুখের আনন্দ। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও, এই পরম্পরাকে আজও ধরে রেখেছে শিলিগুড়ির হায়দরপাড়ার প্রাচীন স্বর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্রতাপ জুয়েলার্স। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পয়লা বৈশাখেও তারা একইভাবে পালন করলো এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।

প্রায় ৩৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই স্বর্ণালয় শুরু থেকেই নববর্ষে ক্রেতাদের মধ্যে বাংলা ক্যালেন্ডার বিতরণ করে আসছে। শুধু ব্যবসা নয়, সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখাকেই তারা নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করে। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার প্রতাপ কর্মকার ও তাঁর ভাই অনন্ত কর্মকার জানালেন, প্রতিবছরের মতো এবছরও হালখাতার আয়োজন, গণেশ পুজো এবং গ্রাহকদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়েছে।

তবে এবারের নববর্ষ উদযাপনের পেছনে রয়েছে এক কঠিন বাস্তবতাও। বর্তমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সোনার দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। সোনার এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির ফলে ক্রেতাদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে, যার ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের “হাঁসফাঁস” পরিস্থিতি।

প্রতাপ কর্মকারদের কথায়, “আগে যেখানে নববর্ষের সময় দোকানে ভিড় উপচে পড়তো, এখন সেখানে অনেকটাই চাপ কম। সোনার দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ ক্রেতারা একটু পিছিয়ে যাচ্ছেন।” তবুও, এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁরা ঐতিহ্য থেকে সরে আসেননি।

একদিকে অর্থনৈতিক চাপ, অন্যদিকে বিশ্ব পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা— সবকিছুর মাঝেও প্রতাপ জুয়েলার্স প্রমাণ করে দিয়েছে, বাঙালির সংস্কৃতি ও পরম্পরা এখনও অটুট। নববর্ষ শুধু ব্যবসার নতুন হিসাব খোলার দিন নয়, এটি সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করারও এক বিশেষ মুহূর্ত।

এইভাবেই ঐতিহ্য আর বাস্তবতার টানাপোড়েনের মাঝে দাঁড়িয়ে, শিলিগুড়ির এই পুরনো প্রতিষ্ঠান আবারও মনে করিয়ে দিল— সময় বদলায়, পরিস্থিতি বদলায়, কিন্তু সংস্কৃতি ও শিকড়ের টান চিরন্তন।