নিজস্ব প্রতিবেদন :২২শে মে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়-এর জন্মবার্ষিকী। ১৭৭২ সালের এই দিনেই পশ্চিমবঙ্গের রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম হয়েছিল। সমাজ সংস্কার, নারী শিক্ষা, সতীদাহ প্রথা বিলোপ এবং আধুনিক শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান ভারতীয় ইতিহাসে আজও অমলিন।

২২শে মে ভারতবর্ষ স্মরণ করে এক মহান সমাজ সংস্কারককে—রাজা রামমোহন রায়কে। তাঁকে বলা হয় “ভারতীয় নবজাগরণের জনক” এবং “আধুনিক ভারতের নির্মাতা”। তিনি শুধু একজন চিন্তাবিদই ছিলেন না, ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের সাহসী কণ্ঠস্বর।
১৮শ ও ১৯শ শতকে ভারতীয় সমাজ যখন নানা কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন, তখন রামমোহন রায় যুক্তিবাদ, মানবতা ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেন। নারীদের ওপর অত্যাচার, বিশেষ করে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে তিনি জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ সরকার সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়।
তিনি বিশ্বাস করতেন, সমাজের উন্নতির মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। তাই তিনি পাশ্চাত্য বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেন। বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও সংবাদপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলা গদ্যের বিকাশে পথিকৃৎদের অন্যতম।
১৮২৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ব্রাহ্ম সমাজ। এই সংগঠনের মাধ্যমে একেশ্বরবাদ, মানবধর্ম ও সামাজিক সমতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। জাতপাত ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে রাজা রামমোহন রায়ের আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। নারী স্বাধীনতা, শিক্ষার প্রসার, যুক্তিবাদী চিন্তা ও মানবিক সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছিলেন, তা আজও আমাদের পথ দেখায়।
তাঁর জন্মদিনে দেশবাসীর শ্রদ্ধাঞ্জলি—
“সমাজ সংস্কারের অগ্রদূত, নবজাগরণের মহানায়ক রাজা রামমোহন রায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন ভারতবাসীর হৃদয়ে।”শিলিগুড়ি বাবুপাড়া থেকে সংবাদ পাঠিকা তথা কন্ঠ শিল্পী অর্পিতা দে সরকার এই মনিষীর জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন

