নিজস্ব প্রতিবেদক : “ভালোবাসা ছাড়া আছে কি, ভালোবাসা হলো নিঃশ্বাস এ দেহের।” — এই অনুভূতিকেই যেন নিজের জীবনে সত্যি করে তুলেছেন শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া নিবাসী ৭৭ বছরের অর্ধেন্দু দে। তাঁর কাছে ভালোবাসা মানে শুধু মানুষ নয়, ভালোবাসা মানে গাছ, সবুজ আর প্রকৃতির সান্নিধ্য।

চারতলা বাড়ি জুড়ে যেন এক সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলেছেন তিনি। বাড়িতে মানুষের সংখ্যা কম হলেও গাছের সংখ্যা অসংখ্য। নিচতলা থেকে ছাদ পর্যন্ত, একেক তলায় একেক ধরনের গাছের সমাহার। কোথাও ফুলের গাছ, কোথাও ক্যাকটাস, কোথাও আবার অন্যরকম গাছ। প্রতিটি গাছ যেন তাঁর পরিবারেরই একেকজন সদস্য।
অর্ধেন্দু বাবুর কথায়, “গাছেরা কথা বলে। মন খারাপ হলে ওদের কাছে এলে শান্তি পাই।” বয়সের ভারে যখন একাকীত্বে ভোগেন, তখন গাছেদের সঙ্গেই নিজের নিঃসঙ্গতা ভুলে থাকেন তিনি। প্রতিদিন নিয়ম করে গাছের পরিচর্যা করেন, জল দেন, কথা বলেন, নতুন চারা লাগান।
বাড়ির পরিচারিকাও জানান, বহু গাছপ্রেমী মানুষ তিনি দেখেছেন, কিন্তু অর্ধেন্দু দে-র মতো এমন ‘গাছ পাগল’ মানুষ খুব কমই দেখা যায়। তাঁর ভালোবাসা আর যত্নে বাড়ির প্রতিটি কোণ যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
সামনেই ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উষ্ণতা, বদলাচ্ছে আবহাওয়া। শিলিগুড়ি শহরও আজ আগের মতো সবুজ নেই। একের পর এক কংক্রিটের বহুতল শহরকে গ্রাস করছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অর্ধেন্দু দে-র এই সবুজে মোড়া বাড়ি যেন এক অন্যরকম বার্তা দেয়—
গাছ শুধু সৌন্দর্য নয়, গাছ মানে ভালোবাসা, বেঁচে থাকার অক্সিজেন, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কের বন্ধন।
আজ যখন মানুষ ব্যস্ততার ভিড়ে প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন অর্ধেন্দু দে যেন নীরবে শিখিয়ে দিচ্ছেন
“একটি গাছ, একটি প্রেম—দুটোই যত্নে বাঁচে।”

