নিজস্ব প্রতিবেদক : স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার নতুন প্রজন্মের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি ও আত্মনির্ভরতার জায়গায় বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভরতা।উদ্বেগ, একাকীত্ব ও অবসাদের মতো সমস্যাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞের।

এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিশিষ্ট নিউরোসার্জন ডাঃ মলয় চক্রবর্তী।ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার মানুষের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে অতিরিক্ত মোবাইল, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভরতা মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে অবস্থিত থ্যালামাস ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের প্রধান কর্ণধার ও বিশিষ্ট নিউরোসার্জন ডাঃ মলয় চক্রবর্তী।
‘খবরের ঘন্টা’-র মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই তরুণ প্রজন্ম নিজের চিন্তা ও সৃজনশীলতার চর্চার পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। লেখালেখি, সাহিত্যচর্চা কিংবা সৃজনশীল প্রকাশের ক্ষেত্রেও অনেকেই প্রযুক্তির সাহায্যের বাইরে ভাবতে পারছে না।
এর ফলে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।ডাঃ চক্রবর্তীর মতে, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটানোর ফলে অনেকের মধ্যেই একাকীত্ব, উদ্বেগ, হতাশা এবং মানসিক অবসাদের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাস্তব সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তে ভার্চুয়াল যোগাযোগের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি অবশ্যই আধুনিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু এর ব্যবহার হতে হবে সচেতন ও নিয়ন্ত্রিত।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বিশিষ্ট এই নিউরোসার্জন অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশু ও কিশোরদের স্ক্রিন টাইমের দিকে নজর রাখা এবং তাদের বাস্তব জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
অন্যথায় প্রযুক্তির অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।ডিজিটাল যুগের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি তার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলিও উপলব্ধি করা জরুরি বলে মত ডাঃ মলয় চক্রবর্তীর। তাঁর কথায়, প্রযুক্তি মানুষের সহায়ক হওয়া উচিত, মানুষের চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকল্প নয়।

