অস্ত্রোপচারও থামাতে পারেনি সুরের পথচলা, ৬৩ বছরেও সঙ্গীতেই ভালো আছেন গোপা দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাত্র দশ বছর বয়সে শুরু হয়েছিল সঙ্গীতের সঙ্গে পথচলা।
সময়ের স্রোতে পেরিয়েছে পাঁচ দশকেরও বেশি, হয়েছে ওপেন হার্ট সার্জারিও।
তবুও থামেনি সুরের সাধনা।
আজও সঙ্গীতকেই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন শিলিগুড়ির বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী গোপা দাস।
সঙ্গীত শুধু একটি শিল্প নয়, অনেকের কাছে তা জীবনের প্রেরণা এবং মানসিক শক্তির অন্যতম উৎস। শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া শরৎ পল্লীর বাসিন্দা, বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী গোপা দাস সেই কথারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।মাত্র ১০ বছর বয়সে, প্রয়াত কীর্তনশিল্পী আরতি সরকারের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তাঁর সঙ্গীতচর্চার সূচনা। আরতি সরকার ছিলেন তাঁর মা। সেই শুরু হওয়া পথচলা আজও অব্যাহত রয়েছে।বর্তমানে ৬৩ বছর বয়সে পৌঁছেও তিনি প্রতিদিন নিয়মিত সঙ্গীতচর্চা করে চলেছেন। জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ে তাঁকে ওপেন হার্ট সার্জারির মতো বড় অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে। কিন্তু সেই শারীরিক চ্যালেঞ্জও তাঁর সুরের প্রতি ভালোবাসাকে একটুও কমাতে পারেনি।গোপা দাসের কথায়, “সঙ্গীতই আমাকে ভালো রেখেছে। গানই আমার মানসিক শক্তি, তাই আজও নিয়মিত রেওয়াজ করি।” তাঁর বিশ্বাস, সঙ্গীত মানুষের মনকে সুস্থ রাখে, জীবনে ইতিবাচক শক্তি জোগায় এবং কঠিন সময়েও এগিয়ে চলার সাহস দেয়।বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশে তাঁর বিশেষ বার্তা, পুরনো দিনের বাংলা গান, কীর্তন ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চা এবং মন দিয়ে শোনার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। কারণ, এই সঙ্গীত শুধু বিনোদন নয়, আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মূল্যবান সম্পদ।দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সুরের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে গোপা দাস আজও প্রমাণ করে চলেছেন—শরীর কখনও দুর্বল হতে পারে, কিন্তু সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা থাকলে মন সবসময়ই শক্তিশালী থাকে।