নিজস্ব প্রতিবেদন :
অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা, বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত বক্তব্য রাখলেন নারী, শিশু কল্যান ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
⭕এখন
সংবাদ বিস্তারিত

জলপাইগুড়িতে মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প, প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং চলমান রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সিআইডির তদন্ত ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের সাক্ষী থেকেছেন। তবে জনপ্রতিনিধিদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
তাঁর দাবি, একটি নির্দিষ্ট নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে আসায় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে। তদন্তের স্বার্থে সকলের সহযোগিতা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির বিষয়েও কথা বলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, প্রকল্পটির সঠিক নাম ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এই প্রকল্পের আবেদনপত্র ব্লক অফিস, পুরসভা, কর্পোরেশন ও বোরো অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
তিনি স্পষ্ট করেন, পরিবারের প্রতিটি মহিলার জন্য আলাদা আবেদনপত্রের প্রয়োজন নেই। একটি পরিবারের জন্য একটি ফর্মই যথেষ্ট, যেখানে পরিবারের একাধিক মহিলা সদস্যের নাম ও ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। তাই অযথা হুড়োহুড়ি না করার পরামর্শ দেন তিনি।
আগামী তিন মাস আবেদন গ্রহণের কাজ চলবে এবং যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হবে বলে জানান।মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা নিয়েও তিনি বক্তব্য রাখেন। তাঁর মতে, নারীদের যাতায়াত সহজ করতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের মহিলারা সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করতে পরিচয়পত্র বা কার্ডভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বেআইনি নির্মাণ, জমি দখল এবং জলাশয় ভরাটের মতো বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান অগ্নিমিত্রা পল। তিনি বলেন, সরকারি বা ব্যক্তিগত জমি এবং জলাভূমি দখল করে যাঁরা অবৈধ নির্মাণ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নগর প্রশাসন সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বৈধ নথিপত্র পেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে, তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উত্তরবঙ্গ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, গত দুদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক পর্যালোচনা ও পরিদর্শন কর্মসূচি চলছে। প্রথম দিনে উত্তরকন্যায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়ং এবং মিরিকের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।
দ্বিতীয় দিনে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। বিশেষ করে নিকাশি পরিশোধন কেন্দ্র, ডাম্পিং গ্রাউন্ড এবং বর্ষাকালে জল জমার সমস্যাপ্রবণ অঞ্চলগুলি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক কাজের গতি ত্বরান্বিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

