শিলিগুড়ির গবেষকের তত্ত্বে নতুন আলোড়ন! আমেরিকান জার্নাল থেকে মার্কিন কোম্পানির প্রযুক্তি—নতুন আশার ইঙ্গিত?

Oplus_16908288

নিজস্ব প্রতিবেদক :শিলিগুড়ির এক গবেষকের ৩৪ পাতার গবেষণাপত্র কি পৌঁছে গেল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে?
২০২০ সালে আমেরিকার একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত সেই গবেষণার সঙ্গে কি মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে একটি মার্কিন কোম্পানির আধুনিক সেলুলার নিউট্রিশন প্রযুক্তিতে?
গবেষকের দাবি, তাঁর বহু বছরের তত্ত্বকে কাজে লাগিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন প্রযুক্তি।
যদিও এই দাবি এখনও স্বাধীনভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই হয়নি, তবুও বিষয়টি ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।শিলিগুড়ির হায়দরপাড়ার বাসিন্দা, বিশিষ্ট কবি ও গবেষক নির্মলেন্দু দাসের বহু বছরের গবেষণা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২০ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী “গ্লোবাল জার্নাল অফ সায়েন্স ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ “-এ তাঁর ৩৪ পাতার গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গবেষকদের কাজের পাশাপাশি এই জার্নালে স্থান পায় নির্মলেন্দু দাসের গবেষণাপত্র, যার শিরোনাম—” ওন্ডার ফাইন্ডিংস অফ নাম্বার অফ সেলস ইন এ বডি ইনক্লুডিং সেক্সুয়াল সেলস,রিমেডি অফ করোনা ভাইরাস, ইনক্রিস অফ মেমোরি এন্ড আদার সেলস বাই কাপল সিস্টেম “।গবেষণাপত্রে নির্মলেন্দু দাস মানবদেহের কোষ নিয়ে একটি নতুন তাত্ত্বিক ধারণা বা হাইপোথিসিস তুলে ধরেছেন, যার নাম কাপল সিস্টেম । তাঁর মতে, শরীরের বিভিন্ন কোষ একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক ভারসাম্য ও পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে কাজ করে। এই ভারসাম্য বজায় থাকলে শরীর সুস্থ থাকে, আর ভারসাম্য নষ্ট হলেই নানা ধরনের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।তাঁর গবেষণায় আরও দাবি করা হয়েছে, এই কোষগত সম্পর্ক বা ভারসাম্যকে গভীরভাবে বোঝা গেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, বিভিন্ন রোগের কারণ বিশ্লেষণ, এমনকি করোনা ভাইরাস সম্পর্কেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে। তবে গবেষণাপত্রে বর্ণিত এই ধারণা এখনও একটি নতুন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব , যা মূলধারার চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত বা প্রমাণিত চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত নয়।অন্যদিকে সম্প্রতি মার্কিন সংস্থা একটি সংস্থা তাদের সেলুলার নিউট্রিশন প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা তৈরি করেছে। সংস্থার দাবি, এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র ভিটামিন সরবরাহ করে না; বরং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে, শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এবং কোষের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিষ্কার করার প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। এতে রেসভেরাট্রল, কারকিউমিন, কোয়ারসেটিন ও অলিভ ফ্রুট এক্সট্র্যাক্টের মতো উপাদান ব্যবহারের কথাও জানানো হয়েছে। তবে এগুলি খাদ্য-পরিপূরক ওষুধ নয়।বুধবার শিলিগুড়ির হায়দরপাড়ার বাড়িতে বসে নির্মলেন্দু দাস জানান, মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি প্রথম এই তত্ত্বের ভিত্তি রচনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে সেটিকে আরও বিস্তৃত করেন। তাঁর কথায়, “আমরা হাঁটি, দেখি, কাজ করি—সবকিছুতেই একটি ভারসাম্য কাজ করে। সেই ভারসাম্য নষ্ট হলেই সমস্যা তৈরি হয়। ঠিক তেমনভাবেই শরীরের প্রতিটি কোষেরও একটি গাণিতিক ভারসাম্য রয়েছে। যদি সেই ভারসাম্য বজায় রাখার উপায় বের করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বহু রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।”নির্মলেন্দু দাস আরও দাবি করেন, তাঁর গবেষণার মূল ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই আমেরিকার একটি সংস্থা সাম্প্রতিক সময়ে যুগান্তকারী প্রযুক্তি দিয়ে ওষুধ তৈরি করেছে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবে এই দাবির স্বাধীন বৈজ্ঞানিক যাচাই এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।যদি ভবিষ্যতে তাঁর দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গবেষণার সঙ্গে ওই প্রযুক্তির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রমাণিত হয়, তাহলে শিলিগুড়ির এই গবেষকের মৌলিক কাজ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বিশেষ স্বীকৃতি পেতে পারে বলেই মনে করছেন তিনি।বর্তমানে নানা শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও নির্মলেন্দু দাস তাঁর গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই গবেষণা শেষ পর্যন্ত কতটা বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।(সম্পাদকের নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত “Couple System” এবং মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে গবেষণার সম্পর্ক সংক্রান্ত দাবিগুলি গবেষক নির্মলেন্দু দাসের নিজস্ব বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। এগুলি এখনও স্বাধীনভাবে বা মূলধারার বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে নিশ্চিত বা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।)