ফেলে দেওয়া সামগ্রীতেই সৃজনের ছোঁয়া

নিজস্ব প্রতিবেদন : শিলিগুড়ি মহকুমার
বাগডোগরার গৃহবধূ পিঙ্কি বড়ুয়ার ব্যতিক্রমী হস্তশিল্পে মুগ্ধ সবাই।শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা ডিফেন্স কলোনির এক সাধারণ গৃহবধূ আজ নিজের সৃজনশীলতার মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন অনেকের অনুপ্রেরণা। তাঁর নাম পিঙ্কি বড়ুয়া। সংসারের নানা ব্যস্ততা, দায়িত্ব ও দৈনন্দিন কাজের ফাঁকেও তিনি খুঁজে নিয়েছেন এক অন্য জগৎ—হস্তশিল্পের সৃজনশীল জগৎ।

অসমে জন্ম পিঙ্কি বড়ুয়ার। তাঁর স্বামী প্রদীপ বড়ুয়া ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মী। সংসারের কাজ সামলেও অবসর সময়কে তিনি নষ্ট হতে দেন না। বরং ফেলে দেওয়া টিনের কৌটা, বাদামের খোসা কিংবা নানা বাতিল সামগ্রীকে নিজের কল্পনা ও শিল্পচেতনার স্পর্শে নতুন রূপ দিচ্ছেন তিনি।

তাঁর হাতে তৈরি নানা শোপিস, টেবিল ল্যাম্প,সাজসজ্জার সামগ্রী ও শিল্পকর্ম ইতিমধ্যেই আশপাশের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, অসমের ঐতিহ্যবাহী বিহু নৃত্যের রঙিন আবহ ও সংস্কৃতির ছাপও তাঁর শিল্পকর্মে ফুটে উঠেছে। লোকসংস্কৃতির সেই প্রাণচাঞ্চল্য ও গ্রামীণ সৌন্দর্যকে তিনি হস্তশিল্পের মাধ্যমে জীবন্ত করে তুলেছেন।

পিঙ্কি বড়ুয়ার এই ব্যতিক্রমী সৃজনশীল প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে সংবাদমাধ্যম “খবরের ঘন্টা”। সংবর্ধনা গ্রহণের পর পিঙ্কিদেবী জানান, সংসারের কাজের পরে যখনই একটু সময় পান, তখন তিনি পরনিন্দা বা অকারণ সময় নষ্ট না করে এই ধরনের সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে ভালোবাসেন।

তাঁর মতে, শিল্পচর্চা মানুষের মনকে ইতিবাচক রাখে এবং জীবনে নতুন উদ্যম এনে দেয়।এদিকে ২৫শে বৈশাখে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর আবহে পিঙ্কি বড়ুয়ার এই সৃজনশীল কাজ যেন নতুন তাৎপর্য বহন করছে। বিশ্বকবি শুধু সাহিত্যেই নয়, শিল্প, সংগীত, নৃত্য ও হস্তশিল্পের প্রতিও গভীর অনুরাগী ছিলেন।

শান্তিনিকেতনে তিনি শিল্পচর্চাকে জীবনের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। প্রকৃতি, সৃজনশীলতা ও হাতে-কলমে শিল্পকর্মের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশের যে শিক্ষা রবীন্দ্রনাথ দিয়েছিলেন, তারই যেন এক ছোট্ট প্রতিফলন দেখা যায় পিঙ্কি বড়ুয়ার কাজে।

আজকের ভোগবাদী সমাজে যেখানে ব্যবহার শেষ হলেই অনেক কিছু ফেলে দেওয়া হয়, সেখানে পিঙ্কি বড়ুয়ার মতো মানুষরা দেখিয়ে দিচ্ছেন—সৃজনশীল মন থাকলে বাতিল জিনিসও হয়ে উঠতে পারে শিল্পের অনন্য উপাদান। তাঁর এই প্রয়াস শুধু শিল্পচর্চাই নয়, পরিবেশ সচেতনতারও এক সুন্দর বার্তা বহন করছে।