নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবধর্ম ও সেবার মহান আদর্শ নিয়ে মানুষকে পথ দেখিয়ে গিয়েছেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব । স্বাধীনতার আগেই বহু সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও কুসংস্কার উপেক্ষা করে তিনি বিশুদ্ধ আধ্যাত্মিকতা, ভক্তিযোগ ও মানবসেবাকেই জীবনের প্রধান ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর কাছে জাতি, ধর্ম, উচ্চ-নীচের কোনো বিভেদ ছিল না।

ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবতার যে অনন্য দর্শন তিনি সমাজকে উপহার দিয়ে গিয়েছেন, তা আজও মানুষের কাছে আলোর দিশা হয়ে রয়েছে। ভক্তদের মতে, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে স্মরণ করলে মনের সমস্ত মলিনতা দূর হয়ে এক ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়।
এই ভাবধারাকেই সামনে রেখে বুধবার শিলিগুড়ির মিত্র সম্মিলনী হলে আয়োজিত হলো অল ইন্ডিয়া শ্রী সারদা সংঘ, শিলিগুড়ি প্রধান শাখার উদ্যোগে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভক্তিমূলক আবহে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংঘের সদস্য-সদস্যা, ভক্তবৃন্দ এবং শহরের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
অনুষ্ঠানে সারদা দেবী ও স্বামী বিবেকানন্দের জীবনদর্শন ও আদর্শ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান সমাজে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশাত্মবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনা গড়ে তুলতে এই মহান ব্যক্তিত্বদের ভাবধারা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাই তাঁদের শিক্ষা ও আদর্শকে আরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক জীবনে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের কিছুটা অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া শ্রী সারদা সংঘের সাধারণ সম্পাদিকা শিপ্রা সহায় । এছাড়াও বিভিন্ন শাখার পূজনীয়া মাতাজীরাও উপস্থিত থেকে আধ্যাত্মিক আলোচনা করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রব্রজিকা গৌতমপ্রানা ,প্রব্রজিকা নির্মুক্তপ্রানা এবং প্রব্রজিকা সত্যরুপাপ্রানা ।
সাংস্কৃতিক পর্বে ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভাগ্যশ্রী লাহিড়ী, রেবা ব্যানার্জী, শেখর ভট্টাচার্য এবং নির্মল গাঙ্গুলি । সংগীত, আধ্যাত্মিক আলোচনা ও ভক্তিমূলক পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল এক অনন্য আবহে ভরে ওঠে।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আধ্যাত্মিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার বার্তা উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। আয়োজকদের মতে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হবে, যাতে সমাজের আরও বেশি মানুষ এই মহান ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

