নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের অধিকাংশ সময় কাটছে মোবাইল, বই কিংবা আঁকাআঁকির মতো কাছের জিনিসের দিকে তাকিয়ে। এর ফলে দূরের বস্তু দেখার অভ্যাস ক্রমশ কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চোখের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করলেন শিলিগুড়ির দ্য হিমালয়ান আই ইন্সটিটিউট
এর বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার স্নেহা বাত্রা।

তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে শুধুমাত্র কাছের জিনিস দেখার কারণে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে দূরের দৃষ্টি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কম মনে করতে শুরু করে। শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া বা চোখের মাইনাস পাওয়ার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শুধু ঘরের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে শিশুদের নিয়মিত বাইরে গিয়ে খেলাধূলা করা এবং প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
বর্তমানে শিশু-কিশোরদের চোখের রোগ মায়োপিয়া নিয়ে বিশেষ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন ডা. স্নেহা বাত্রা। তাঁর এই গবেষণা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, শুধু শিশু নয়, যে কোনও মানুষেরই প্রতিদিন কিছুটা সময় দূরের সবুজ প্রকৃতি কিংবা অসীম আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা উচিত। এতে চোখের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং দূরের দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে।
সামনেই পালিত হতে চলেছে মায়োপিয়া সপ্তাহ। সেই উপলক্ষে খবরের ঘন্টাকে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন ডা. বাত্রা। তাঁর কথায়, সুস্থ চোখের জন্য সূর্যের আলো, সবুজ পরিবেশ এবং ভিটামিন ডি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে মায়োপিয়ার সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। যদি এই মাইনাস পাওয়ার অত্যধিক বেড়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর চোখে নানা জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ ধরনের আধুনিক লেন্স ও উন্নতমানের চশমা আনা হয়েছে। পাশাপাশি রাতের বেলায় বিশেষ কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিও শুরু হয়েছে।
আগামী ২৪ মে শিলিগুড়ি তথ্য কেন্দ্রের রামকিঙ্কর হলে মায়োপিয়া বিষয়ক একাধিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তার আগে স্কুল পড়ুয়াদের কাছ থেকে মায়োপিয়া নিয়ে প্রবন্ধ ও পোস্টার আহ্বান করা হচ্ছে। জমা দেওয়ার শেষ দিন ২০ মে এবং নির্বাচিতদের পুরস্কৃতও করা হবে।
ডা. বাত্রা জানান, শিলিগুড়ি শহর, গ্রাম এবং পাহাড় এলাকার শিশুদের নিয়ে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহরের শিশুদের চোখের সমস্যার ধরন গ্রাম বা পাহাড়ের শিশুদের তুলনায় অনেকটাই আলাদা।

