স্ট্রেসের ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম,কিভাবে ভালো থাকবেন

নিজস্ব প্রতিবেদন : অস্থিরতা, উদ্বেগ, হতাশা— আজকের ব্যস্ত জীবনে যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।কেন বাড়ছে মানসিক চাপ?কীভাবে তার প্রভাব পড়ছে মস্তিষ্ক ও শরীরের ওপর?
এই বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন বিশিষ্ট নিউরোসার্জন ডাঃ মলয় চক্রবর্তী।

আধুনিক জীবনের প্রতিযোগিতা, অনিশ্চয়তা এবং ব্যস্ততার চাপে ক্রমশ বাড়ছে মানসিক অস্থিরতা ও স্ট্রেস। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মত চিকিৎসকদের। স্ট্রেসের কারণে অনেকের মধ্যেই অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, মনঃসংযোগের অভাব এবং বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে অবস্থিত থ্যালামাস ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের কর্ণধার তথা বিশিষ্ট নিউরোসার্জন ডাক্তার মলয় চক্রবর্তী খবরের ঘন্টাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ শরীর ও মনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।তিনি আরও বলেন, অনেক তরুণ-তরুণী মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে ধূমপান বা মদ্যপানের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। কিন্তু সাময়িক স্বস্তি দিলেও এই অভ্যাসগুলি দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আনন্দের সন্ধানে নেওয়া এই পথ শেষ পর্যন্ত আরও হতাশা ও নানা জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে।

ডাঃ চক্রবর্তীর মতে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা, যোগব্যায়াম এবং মেডিটেশনের বিকল্প নেই। ব্যায়াম শুধু শরীরকেই সুস্থ রাখে না, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যোগাসন ও ধ্যান মনকে শান্ত রাখতে এবং স্ট্রেস কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -এর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, জীবনে একের পর এক ব্যক্তিগত আঘাত ও শোকের মুখোমুখি হয়েও রবীন্দ্রনাথ নিজেকে ভেঙে পড়তে দেননি। বরং সৃষ্টিশীল কাজের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর দুঃখ ও বেদনাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করেছিলেন। বর্তমান প্রজন্মও সৃজনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে মানসিক চাপ মোকাবিলা করতে পারে।

নিজের মন, মস্তিষ্ক ও শরীরকে সুস্থ রাখার উপায়, স্ট্রেসমুক্ত জীবনের গুরুত্ব এবং ইতিবাচক জীবনদর্শন নিয়ে এই ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বিশিষ্ট নিউরোসার্জন ডাঃ মলয় চক্রবর্তী। তাঁর মূল্যবান বক্তব্য জানতে নজর রাখুন পুরো ভিডিওতে।