নিজস্ব প্রতিবেদক : চারদিকে চা বাগান, জঙ্গল আর নানা প্রতিকূলতার মাঝেও ইচ্ছাশক্তি, প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে যে বিশ্বমঞ্চেও পৌঁছে যাওয়া সম্ভব, সেই কথাই আরও একবার প্রমাণ করলেন ডুয়ার্সের বানারহাটের তরুণী শ্রেয়সী দাস। থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য, বিশেষ করে ওড়িশি নৃত্য পরিবেশন করে দেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন তিনি।

মঙ্গলবার ২৬ মে বানারহাট তরুণ সংঘ ক্লাব চত্বরে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত নার্স সোনালী সামন্ত আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শ্রেয়সীর অসাধারণ নৃত্য প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের সামনে নিজের নৃত্য পরিবেশন করেও সকলকে মুগ্ধ করেন তিনি।
শ্রেয়সীর বাবা সুজিত দাস ও মা অনিন্দিতা সরকার দাস। ছোটবেলা থেকেই মেয়ের নাচের প্রতি গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করেছিলেন তাঁরা। মাত্র চার বছর বয়স থেকে নৃত্যের প্রতি শ্রেয়সীর ভালোবাসা শুরু হয়, যা আজ ধীরে ধীরে বড় স্বপ্নের রূপ নিচ্ছে।
শ্রেয়সী জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকা প্রয়োজন। নাচ, গান, আঁকা বা খেলাধুলার মতো চর্চা মানুষের মনকে সুস্থ রাখে এবং সমাজকেও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। তার মতে, সুস্থ সংস্কৃতি চর্চাই সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
মেয়ের সাফল্যের পেছনে পরিবারের আত্মত্যাগের কথাও উঠে আসে। শ্রেয়সীর মা জানান, প্রত্যন্ত ডুয়ার্স এলাকা থেকে নিয়মিত কলকাতায় যাতায়াত করা সহজ ছিল না। কিন্তু মেয়ের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে তাঁকে বারবার কলকাতায় নিয়ে যেতে হয়েছে শুধুমাত্র ওড়িশি নৃত্যের প্রশিক্ষণের জন্য।
গুরু গিরিধারী নায়েকের ওড়িশি আশ্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে তালিম নিয়ে নিজের শিল্পসত্তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে শ্রেয়সী।ডুয়ার্সের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে শ্রেয়সী আজ বহু তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত গোটা বানারহাট এলাকা।

