জগন্নাথের স্নানযাত্রায় মহানন্দা আরতি, নদী বাঁচানোর বার্তা শিলিগুড়িতে

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্নানযাত্রা ও জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে মহানন্দার তীরে ভক্তি ও পরিবেশ সচেতনতার অনন্য উদ্যোগ।
মহানন্দা আরতির মধ্য দিয়ে নদী সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরলেন বিশিষ্টজনেরা।অবৈধ বালি উত্তোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি মহানন্দা বাঁচাও কমিটির।

জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রা এবং জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাকে সামনে রেখে সোমবার শিলিগুড়ির মহানন্দা নদীর তীরে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করে মহানন্দা বাঁচাও কমিটি এবং নমামি গঙ্গে। মহানন্দা আরতির মাধ্যমে নদীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার পাশাপাশি পরিবেশ ও নদী সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় উপস্থিত সকলের সামনে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট লেখক ও বুদ্ধিজীবী নিধূভূষণ দাস বলেন, জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা আমাদের শুধু ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করে না, প্রকৃতি ও জলসম্পদ রক্ষার দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, জলই জীবনের মূল ভিত্তি এবং নদীকে রক্ষা করা মানে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখা। আধ্যাত্মিক চেতনা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে তিনি নদী সংরক্ষণে সামাজিক অংশগ্রহণের উপর জোর দেন।

অন্যদিকে, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও পরিবেশপ্রেমী জ্যোৎস্না আগরওয়ালা মহানন্দা নদীকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি মহানন্দা নদীর চর এবং মহানন্দা সেতুর সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি চক্র নিয়মিতভাবে বালি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে তাঁদের নজরে এসেছে। তাঁর দাবি, এভাবে অবৈধ বালি উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনই সেতুর নিরাপত্তার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে মহানন্দা বাঁচাও কমিটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

ধর্মীয় আচার, পরিবেশ সচেতনতা এবং নদী রক্ষার সামাজিক অঙ্গীকার— এই তিনের সমন্বয়ে মহানন্দার তীরে এদিনের কর্মসূচি এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। উপস্থিতদের বার্তা ছিল একটাই— নদী শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, সভ্যতা ও জীবনের ধারক। তাই নদী রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।